সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট: বিপাকে ২৬ হাজার রোগী

  • আপলোড সময় : ১১-০১-২০২৬ ০৯:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০১-২০২৬ ১০:০২:১৪ পূর্বাহ্ন
হাসপাতালগুলোতে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট: বিপাকে ২৬ হাজার রোগী
শামস শামীম ::
সুনামগঞ্জের অধিকাংশ হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ নেই। গত ডিসেম্বর থেকে সাপ্লাই বন্ধ আছে বলে জানা গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বিনামূল্যে ডায়াবেটিকের ওষুধ পাওয়া রোগীরা। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা আর্থিক সমস্যার কারণে ওষুধ কিনে সেবন করতে পারছেন না। এতে তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কিছু হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ‘গিক্লাজাইড’ ওষুধটি স্বল্প পরিমাণে থাকলেও ‘ম্যাট ফরমিন’ ওষুধটি নেই। এর মধ্যে তিনটি হাসপাতালে গত ডিসেম্বর থেকে ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধের সাপ্লাই নেই। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এনসিডি কর্নার (নন কমিউনিক্যাবল ডিজিজ) গুলোতে এই সংকট চলছে ডিসেম্বর থেকে। এতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় দাতারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ কিছু রোগের ওষুধ বিনামূল্যে দিতো। সম্প্রতি প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে এখন এই ওষুধ সরবরাহ করা হয়। জেলা ও উপজেলায় প্রতিটি হাসপাতালে এনসিডি কর্নার থেকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের রোগী, অ্যাজমার রোগীরা চিকিৎসা ও ওষুধ ও ফলোআপ চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মাসিক কার্ড করে দিয়েছে সরকার। কার্ডধারীদের পাশাপাশি আউটডোর ও ইনডোরের রোগীরাও হাসপাতালের ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ওষুধ নিতে পারেন।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, জেলায় এনসিডি কর্নার থেকে প্রায় ৪৩ হাজার ৪২৬জন রোগী কার্ড নিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী আছেন প্রায় ২৬ হাজার। প্রতি মাসে একটি হাসপাতাল থেকে এক থেকে দেড় লাখ ট্যাবলেট মাসে রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর থেকে প্রতিটি হাসপাতালে গিক্লাজাইড ট্যাবলেটের সামান্য সরবরাহ থাকলেও ম্যাট ফরমিন ট্যাবলেটটির সরবরাহ একেবারে কম ছিল। তবে ডিসেম্বর থেকে জামালগঞ্জ, দিরাই ও তাহিরপুর হাসপাতালে ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধেরই সরবরাহ নেই। যে কারণে কার্ডধারী ডায়াবেটিসের রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে এনসিডি র্কারের দায়িত্বরত ব্রাদার মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল ওষুধ মেট ফরমিন ও গিক্লাজাইড সাপ্লাই বন্ধ আছে। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের জুয়েল আহমদের সঙ্গেও কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।
এসময় এনসিডি কর্নার ও ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে ওষুধ নিতে আসা একাধিক রোগীও একই কথা জানান। এদিকে পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কথা বলে জানা গেছে ডিসেম্বর থেকে এনসিডি কর্নারসহ ইনডোর ও আউটডোরের রোগীদের জন্যও ডায়াবেটিসের ওষুধের সরবরাহ বন্ধ আছে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ নিতে আসা বেতগঞ্জের মহিবুর রহমান বলেন কাজের সূত্রে আমার এক আত্মীয়ের ওষুধের কার্ড করা আছে আরেক জায়গায়। সেখানে ওষুধ নেই। তাই সদর হাসপাতালে ওষুধ নিতে এসেছিলাম। এসে শুনি এখানেও ওষুধ নেই।

শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ পাচ্ছিনা। ডাক্তার আসলে বলেন সাপ্লাই নাই। আমরা যারা রোগী তারা এখন সমস্যায় আছি। যাদের টাকা-পয়সা নাই তারাই হাসপাতাল থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়ে খায়। ধনীরা বাজার থেকে কিনে খায়। এখন আমাদের মতো গরিবরা রিক্সে আছেন।
দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, আমাদের হাসপাতালে ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধ নাই। ২ মাস ধরে ওষুধ বন্ধ আছে। এখন আমরার রোগ বেড়ে গেছে। শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এনসিডিতে ডায়াবেটিসের ওষুধসহ কয়েকটি ওষুধ নেই। আমাদের ইনডোরেও সাপ্লাই শেষ হয়ে গেছে। আশা করি দ্রুত পেয়ে যাবো। তবে ডায়াবেটিসের মেট ফরমিন জরুরি ওষুধ এবং প্রতিদিনই মানুষ এই ওষুধের জন্য আসেন বলে তিনি জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসীম উদ্দীন বলেন, এনসিডিতে যে ওষুধ সাপ্লাই দেওয়া হয় সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সাপ্লাই দিচ্ছে। এনসিডিতে মাসের ওষুধ দেওয়া হয়। সাপ্লাই কম থাকায় আমরা গত মাস থেকে ১৫ দিনের সাপ্লাই দিচ্ছি। সারা বাংলাদেশেই বর্তমানে এই সমস্যা বলে জানান তিনি। তবে জেলার তিনটি উপজেলা হাসপাতালে ডায়াবেটিসের কোনও ওষুধই নেই বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিসের ওষুধ নাই। অন্যান্য যে ওষুধের কিছু সংকট আছে তা দ্রুতই সাপ্লাই দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স